হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেও বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির বড় অংশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রণালী খুলে গেলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট তখনই শুরু হবে। কারণ শত শত জাহাজ একসঙ্গে উপসাগরীয় বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করবে, যা বড় ধরনের জট তৈরি করবে।
বর্তমানে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এই অঞ্চলে আটকে আছে। এর মধ্যে অনেক জাহাজ অপেক্ষা করছে প্রণালী খোলার জন্য, আবার কিছু জাহাজ বিকল্প দীর্ঘ পথে ঘুরে পণ্য পরিবহন করছে।
জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেও জমে থাকা তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের বড় অংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে এবং সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘমেয়াদেও পড়বে। জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ড্রোন ও অন্যান্য হামলার কারণে ঝুঁকি বেড়েছে।
বীমা খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে অনেক কোম্পানি বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান এই ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প বাণিজ্য পথ ব্যবহার করবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, প্রণালী খুলে গেলেও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যে এর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হবে।
















