ইরানে চলমান যুদ্ধ শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক সংকট নয়, এটি পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভেতরেও গভীর বিভাজন তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে মতপার্থক্য এখন পরিবার ভাঙার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তেহরানের কাছে এক শহরে এক ভাই তার বোনকে বলে বসেন, “তুমি আর আমার বোন নও।” পাল্টা বোনও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এমন ঘটনাই এখন ইরানের বিভিন্ন পরিবারে ঘটছে বলে জানা গেছে।
সিনা নামে এক তরুণ জানান, নওরোজ উপলক্ষে পরিবারের একত্রিত হওয়ার সময়ই এই তীব্র বিভাজন সামনে আসে। তার চাচা, যিনি সরকারপন্থী একটি মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য, নিজের বোনের সঙ্গে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানান, কারণ তিনি সরকারবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন।
এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধকে ঘিরে ইরানি সমাজে মতভেদ কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বিদেশি হামলাকে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে দেশের জন্য বিপর্যয় মনে করছেন।
ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে যোগাযোগ বজায় রেখে তাদের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, শুরুতে আতঙ্ক থাকলেও এখন অনেকেই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। তেহরানের আরেক তরুণ কাভেহ জানান, তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক আগেই খারাপ ছিল, কিন্তু যুদ্ধের সময় তা আরও অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে তিনি পরিবার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে উত্তর ইরানের এক শিক্ষার্থী মারাল বলেন, তার বাবার সঙ্গে প্রায়ই তর্ক হয়। তার বাবা যুদ্ধকে সমর্থন করলেও মারাল চান দ্রুত যুদ্ধের অবসান হোক। তার মতে, এই সংঘাতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তেহরানের আরেক তরুণী তারা জানান, তার পরিবারের সদস্যরা শুরুতে হামলাকে সমর্থন করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের অবস্থান কিছুটা নরম হয়েছে। কাছাকাছি এলাকায় হামলার পর তার বোনও যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ইরানের সমাজে শুধু রাজনৈতিক নয়, মানসিক ও সামাজিক বিভাজনও তৈরি করছে। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও মতবিরোধ তীব্র হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের মানুষ একদিকে যুদ্ধের ভয়, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ মতভেদের মধ্যে পড়ে এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।
















