চীনের নতুন জাতিগত ঐক্য উন্নয়ন আইন কার্যকর হওয়ার পর তাইওয়ান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই আইনের মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের ওপরও আইনগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বেইজিং।
চলতি মাস থেকে কার্যকর হওয়া আইনে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য জোরদারের বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করে—এমন অভিযোগে বিভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তু অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে আইনের সেই বিধান, যেখানে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যদি তাদের কর্মকাণ্ডকে জাতিগত ঐক্যের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তাইওয়ানের সরকার বলছে, নতুন আইনটি তাইওয়ানের জনগণকে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক কাঠামো মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে সীমান্তপারের আইনি চাপ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের বেশ কয়েকটি ধারায় ব্যবহৃত শব্দের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় ভবিষ্যতে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী, ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত চীন সফরকারীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, এই আইনের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তারা সীমান্তপারের ভিন্নমত দমনের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন আইনটি দুই তীরের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং জনমতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
















