এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন নিয়ে নতুন অভিযোগ, ‘ভিত্তিহীন’ বলছে মেটা
হোয়াটসঅ্যাপের তথাকথিত ব্যক্তিগত বার্তায় মেটার প্রবেশাধিকার আছে—এমন অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক; মেটা বলছে, তাদের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ভাঙার সক্ষমতা নেই এবং অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপ্টেড বার্তা মেটা পড়তে পারে—এমন অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রযুক্তি অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রে করা একটি মামলার সূত্র ধরে বিষয়টি সামনে এলেও অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা’ ও ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মেটা।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, মেটা নাকি প্রায় সব হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথাকথিত ‘প্রাইভেট’ যোগাযোগে প্রবেশাধিকার রাখতে পারে। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মেটা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
মেটার দাবি, মামলাটি করা হয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপকে পরোক্ষভাবে সমর্থনের অংশ হিসেবে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের করা এক মামলায় এনএসও গ্রুপ পরাজিত হয় এবং এক হাজার চারশর বেশি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারের দায়ে তাদের ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়।
বর্তমান মামলাটি করেছে আইন ফার্ম কুইন ইমানুয়েল উর্কহার্ট অ্যান্ড সালিভান। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বিভিন্ন দেশের হুইসেলব্লোয়ারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ অভিযোগ তুলেছে। তবে একই আইন ফার্ম অন্য একটি মামলায় এনএসও গ্রুপের পক্ষেও কাজ করছে।
মেটার মুখপাত্র বলেন, শুধু শিরোনাম দখলের উদ্দেশ্যে এ ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে এবং এ নিয়ে তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক স্টিভেন মারডক মামলাটিকে ‘অদ্ভুত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, অভিযোগগুলো হুইসেলব্লোয়ারদের ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, যদি হোয়াটসঅ্যাপ সত্যিই ব্যবহারকারীদের বার্তা পড়ত, তাহলে তা কোম্পানির ভেতর থেকেই ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এত বড় বিষয় দীর্ঘদিন গোপন রাখা কঠিন।
মারডকের ভাষ্য, এমন ঘটনা ঘটলে কোম্পানির ব্যবসায়িক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন কী বলে
হোয়াটসঅ্যাপ নিজেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরে। এর অর্থ, বার্তা শুধু প্রেরক ও প্রাপকই পড়তে পারেন; মাঝখানের কোনো সার্ভার তা ডিকোড করতে পারে না।
প্রযুক্তি খাতের একাধিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, মেটাডেটা সংগ্রহ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড বার্তার কনটেন্ট পরে গিয়ে পড়ার সক্ষমতা প্ল্যাটফর্মের আছে—এমন দাবি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত অসম্ভব।















