ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ার শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ইউরোপে অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ করতে যাচ্ছে। ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই তহবিল ব্যবহারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ব্লকের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আজ শুক্রবার ২১০ বিলিয়ন ইউরো (২৪৬ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থবির করে রাখার পরিকল্পনাটি অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অনুমোদনের জন্য প্রতি ছয় মাস পর পর নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির জন্য সর্বসম্মতিক্রমে ভোটের পরিবর্তে একটি যোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর জন্য ইইউ-এর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে কমপক্ষে ১৫টির সমর্থন প্রয়োজন, যা ইইউ-এর মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ইইউ নেতাদের মধ্যে এই নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দেবে যে, কীভাবে হিমায়িত রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের এই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদকে ইউক্রেনের আর্থিক ও সামরিক চাহিদা পূরণের জন্য একটি বিশাল ঋণের জামিন হিসাবে ব্যবহার করা যায়। ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞার ফলস্বরূপ এই ২১০ বিলিয়ন ইউরোর রাশিয়ান সম্পদ ইউরোপে জব্দ করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই বেলজিয়ামের আর্থিক ক্লিয়ারিং হাউস ইউরোক্লিয়ারে রাখা আছে।
এই প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তটি বর্তমান ব্যবস্থার স্থলাভিষিক্ত হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় তহবিল জব্দ রাখার জন্য প্রতি ছয় মাসে সর্বসম্মতভাবে পুনরায় অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। তবে এই নতুন সিদ্ধান্ত ততক্ষণ কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না ইইউ-এর অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর থেকে তাৎক্ষণিক হুমকি দূর হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল যে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত এবং ইউক্রেনকে আরও সমর্থন দেওয়ার বিরোধী হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলো নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে তহবিল ফেরত দিতে বাধ্য করতে পারে।
অন্যদিকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান, যিনি ইউরোপে ক্রেমলিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র, এই প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইউরোপীয় কমিশনকে (যারা এই ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে) “নিয়ম-নীতির পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘন” করার অভিযোগ এনেছেন। তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো “ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইনের শাসন শেষ হচ্ছে, এবং ইউরোপের নেতারা নিজেদেরকে নিয়মের ঊর্ধ্বে স্থান দিচ্ছেন।” তিনি দাবি করেন, “ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেই তারা এটা করছে, যে যুদ্ধ স্পষ্টতই জেতা সম্ভব নয়।”
এদিকে, ইউরোক্লিয়ার যেখানে অবস্থিত, সেই বেলজিয়ামও ইইউ-এর “ক্ষতিপূরণ ঋণ” পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, এতে “গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি রয়েছে।”
অন্যদিকে, রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক আজ শুক্রবার জানিয়েছে যে তারা জব্দ করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে মস্কোতে একটি মামলা দায়ের করেছে। একটি পৃথক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল ব্যাংক বলেছে যে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহারের ইইউ-এর বৃহত্তর পরিকল্পনা “অবৈধ, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী” এবং “সম্পদের সার্বভৌম অনাক্রম্যতা নীতি” লঙ্ঘন করে।
















