ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ৯৬তম দিনে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। নতুন করে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে রয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কেশম দ্বীপে আত্মরক্ষামূলক অভিযান চালিয়েছে। এর পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করে, তারা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা পাল্টা জবাব হিসেবে আঞ্চলিক বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একই সময়ে বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। মার্কিন সামরিক কমান্ডের দাবি, ইরানের ছোড়া সব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ঘাঁটি বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।
সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় না দিলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে এর চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। একই সময়ে ইরানের প্রধান আলোচক সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি নতুন সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আলোচনায় ক্রমশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি।
লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন হামলায় কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পাল্টা জবাব হিসেবে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক হামলার দাবি করেছে।
এদিকে ইসরায়েলের সরকার উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সীমান্ত এলাকায় নতুন প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ এবং ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও সমালোচনা বাড়ছে। বিরোধী দলের নেতারা বর্তমান নীতিকে ব্যর্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজার নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধের ৯৬তম দিনে সামরিক উত্তেজনা যেমন অব্যাহত রয়েছে, তেমনি আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য বজায় থাকায় দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
















