ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার যে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, সেটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির ভাষায়—এই নির্বাচন কমিশন “অবৈধ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং দখলদার চক্রের হাতিয়ার”, যার অধীনে দেশে কোনো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
দলের বিবৃতিতে বলা হয়, “অবৈধ ও দখলদার খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস চক্রের ঘোষিত তফসিল গভীরভাবে পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি—বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সংকটময় পরিবেশে স্বাভাবিক ও নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ কল্পনারও বাইরে।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার জানান, শেখ হাসিনা অপসারণের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে ঐ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই আওয়ামী লীগের—কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে দলটি নির্বাচনে নিষিদ্ধ।
আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে ক্ষোভ ফিরে আসে আরও তীব্র ভাষায়—“জনগণের সামনে দাঁড়ানোর শক্তি ও সাহস আমাদের আছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলকে, অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিকে এবং দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের এই প্রচেষ্টা দেশকে গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেবে।”
দলটি দাবি করেছে—আরোপিত সব বাধা তুলে নিতে হবে, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে “মনগড়া মামলা” বাতিল করতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তারা আরও বলেছে, একটি “নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার” গঠন ছাড়া স্বাধীন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। মোট ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। রাজনৈতিক আবহে বিএনপিকে এখন অন্যতম এগিয়ে থাকা শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ক জাতীয় গণভোট, যা বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর।
দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার যে ঢেউ উঠেছে, তার ওপর আওয়ামী লীগের এই ঘোষণা যেন আরও গভীর অনিশ্চয়তার পর্দা নামাল—ভোটের দিন ঘনিয়ে এলে সংকটের পথ কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো অনিশ্চয়তার আঁধারে ঢাকা।
















