ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চল সাউথ কিভু প্রদেশে রুয়ান্ডার সমর্থিত M23 সশস্ত্র বাহিনীর হঠাৎ আক্রমণের ফলে ৪০০’র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। রুয়ান্ডাকে শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, M23 বৃহস্পতিবার সাউথ কিভুর কৌশলগত শহর উভিরা দখল করেছে। মাসব্যাপী তীব্র লড়াইয়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এই সংঘাত এমন এক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে কঙ্গো এবং রুয়ান্ডার রাষ্ট্রপতি একটি শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে চুক্তি M23 কে অন্তর্ভুক্ত করেনি।
স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, “উভিরা থেকে বুকাভু পর্যন্ত এলাকায় ৪১৩-এর বেশি নিরীহ মানুষ গুলি, গ্রেনেড ও বোমার আঘাতে নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক নারী, শিশু এবং তরুণ রয়েছে। এই আক্রমণে রুয়ান্ডা বিশেষ বাহিনী ও কিছু বিদেশি দালালদের উপস্থিতি রয়েছে, যা চুক্তি লঙ্ঘনের স্বচ্ছ প্রমাণ।”
M23 ঘোষণা করেছে, তারা বুধবার বিকেলে উভিরা শহরের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সপ্তাহের শুরু থেকে শুরু হওয়া আক্রমণটি খুব দ্রুত গতি পেয়েছে। শহরের আশপাশে বৃহস্পতিবার সকালেও sporadic গুলির শব্দ শোনা গেছে। গত কয়েক মাস ধরে উভিরা প্রদেশীয় সরকারের কেন্দ্র হিসাবে কাজ করছিল, যেটি কিঞ্চাসার নিয়োগপ্রাপ্ত ছিল, কারণ বিদ্রোহীরা ফেব্রুয়ারিতে বুকাভু দখল করেছিল।
স্থানীয় শিক্ষক গডেফ্রয়েড শেঞ্জেজি জানান, “সরকার বলেছিল উভিরা কখনও পড়বে না, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে। আজকের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।” উভিরা লেক ট্যাঙ্গানিকা-এর উত্তরের প্রান্তে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর, যা প্রতিবেশী বুরুন্ডির বৃহত্তম শহর বুঞ্জুমুরার ঠিক বিপরীতে।
কেবল ডিআর কঙ্গোই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘও রুয়ান্ডাকে M23 সমর্থনের অভিযোগে দায়ী করছেন। ২০২১ সালে M23-এর সদস্যসংখ্যা কয়েকশোর মধ্যে হলেও, বর্তমানে এটি প্রায় ৬,৫০০ সদস্য বিশিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী প্রায় ৪,০০০ রুয়ান্ডা সেনা ডিআর কঙ্গোতে অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর জানিয়েছে, তারা “চলমান সহিংসতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” এবং রুয়ান্ডাকে M23 সমর্থন বন্ধ করতে ও আক্রমণ কমাতে বলেছে। কঙ্গসায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বুধবার এক বিবৃতিতে M23 ও রুয়ান্ডা বাহিনীকে সব আক্রমণ বন্ধ করতে এবং রুয়ান্ডা বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানিয়েছে।
রুয়ান্ডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঙ্গোর বাহিনীকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করেছে। তারা বলেছে, “ডিআর কঙ্গো প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে তারা কোনো যুদ্ধবিরতি পালন করবে না এবং শান্তিচুক্তির মধ্যেও হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।”
প্রায় ১০০টির বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই পূর্বাঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যার মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় M23। এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে, স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন সাত মিলিয়নের বেশি মানুষ জায়গা ছেড়ে পালিয়েছে।
















