ঢাবি ছাত্রদলের অভিযোগ—বিতর্কিত বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনা বিকৃত করা হয়েছে, প্রশাসনের উদাসীনতায় বিজয় মাসের আয়োজনেও ক্ষোভ
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। বিতর্কিত বিবৃতি ঘিরে ক্যাম্পাসে সমালোচনা, পাশাপাশি বিজয় মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকসজ্জা না হওয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা দাবি করে, বিতর্কিত বিবৃতির মাধ্যমে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।
ছাত্রদলের অভিযোগ, প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নেতৃত্বের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে ডাকসুর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাষ্ট্র নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিয়েছে, যা ইতিহাস বিকৃতির শামিল।
বিতর্কিত ওই বিবৃতিতে লেখিকা ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে ১৯৪৭-এর বিভাজন এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধকে ধারাবাহিক সংগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়কে স্বৈরাচার, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও গুম-খুনের অন্ধকার পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্র-আকাঙ্ক্ষা পূরণের নতুন সুযোগ বলে মন্তব্য করেন।
ছাত্রদল বিবৃতিটিকে “ধৃষ্টতাপূর্ণ বিকৃতি” আখ্যা দিয়ে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। তারা দাবি করে, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বিজয়ের মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোকসজ্জার উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ছাত্রদল। তাদের অভিযোগ, কলাভবন, কার্জন হলসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবন আলোকসজ্জার ঐতিহ্য এবার অনুসরণ না করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের “দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার” নিন্দা জানিয়েছে এবং বিজয় মাসের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
















