বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে এক লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রকাশিত ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড সূত্রে জানা গেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে দুই হাজার ১৬৭ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছর ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪৪২ জনে।
পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে অদ্যাবধি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো মোট ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে।
মৃত ব্যক্তিদের মোট পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, মোট ৩০৭ জন মৃতের মধ্যে নারী রোগীর হার ৫১২.৩ শতাংশ বা তার কাছাকাছি অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষ রোগীর হার ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
চলতি বছরের মাসভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে মারা গেলেও মার্চ ও এপ্রিল মাসে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে। পরবর্তীতে জুলাই মাসে ৩৬ জন এবং আগস্ট মাসে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর সেপ্টেম্বরের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, যে মাসে মোট ১৪৮ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। আর চলতি অক্টোবরের এই পর্যন্ত মোট ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত ৬ অক্টোবর এক দিনেই সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ও এলাকাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা যায় যে, ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৮৪ জন, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৩৬ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন এলাকায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে খুলনায় ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ২৭ জন, বরিশালে ২৬ জন, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২২ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেটে তিনজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
অন্যদিকে, আক্রান্ত রোগীদের মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মোট ২১ হাজার ৮২২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। বছরের অন্যান্য মাসের মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন, জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে নয় হাজার ২০৬ জন এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আক্রান্ত এসব রোগীর মধ্যে ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৯৫ হাজার ৩৩১ জন।


























