Dhaka ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আজ দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আজ রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলায় আজ রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর তার জবানবন্দি গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত দিনে সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকলেও অন্য একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান থাকায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন।

আলোচিত এই মামলায় বর্তমানে চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তারা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।

অন্যদিকে, নানক ও তাপসসহ মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন। গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই ২৮ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর ঐতিহাসিক আদেশ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশনের তথ্য ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ নজিরবিহীন নৃশংসতা চালায়। আসামিদের সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে আন্দোলনকারী ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন নিহত হন এবং গুলিতে আহত হন আরও বহু মানুষ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আজ দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আজ রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলায় আজ রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর তার জবানবন্দি গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত দিনে সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকলেও অন্য একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান থাকায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন।

আলোচিত এই মামলায় বর্তমানে চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তারা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।

অন্যদিকে, নানক ও তাপসসহ মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন। গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই ২৮ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর ঐতিহাসিক আদেশ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশনের তথ্য ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ নজিরবিহীন নৃশংসতা চালায়। আসামিদের সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে আন্দোলনকারী ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন নিহত হন এবং গুলিতে আহত হন আরও বহু মানুষ।