ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিলে জ্বালানি ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত একজনকে হত্যা ও কয়েকজনকে আহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুর্দি আঞ্চলিক সরকার। কয়েক দিন আগে খোর মোর গ্যাসক্ষেতে রকেট হামলার পর থেকেই এলাকায় অস্থিরতা বাড়ছিল।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, খোর মোরে হামলায় গ্যাসক্ষেতের একটি স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তরল জ্বালানি পাঠানো হলে এরবিলের গ্বর এলাকায় একদল দাঙ্গাকারী ট্যাঙ্কার বহরের পথ অবরোধ করে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের ওপর গুলি চালায়। এতে এক নাগরিক নিহত হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হয়।
মন্ত্রণালয় বলছে, এসব ‘দাঙ্গা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়, এরবিল–গ্বর সড়কে লাজান গ্রামের কাছে হারকিয়া গোত্রের লোকজন ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, লানাজ কোম্পানি রিফাইনারির পাশের এ সংঘর্ষে হতাহত হয়েছে।
এদিকে কুর্দি প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি জানিয়েছেন, খোর মোর গ্যাসক্ষেতের উৎপাদন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় শুরু হবে। তিনি গ্যাসক্ষেত পরিচালনাকারী কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ে ড্রোন হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১১টি হামলার মুখে পড়েছে খোর মোর। বৃহস্পতিবারের হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা, যা উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলেছে।
বারজানি ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল–সুদানিকে হামলার দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ, আর সরকারও এখনো কারা এর পেছনে রয়েছে তা স্পষ্ট করেনি।
উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সাবেক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক তালাত রুদাও টিভিকে জানান, খোর মোরে ড্রোন হামলাটি ইরাকি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক শিল্প সূত্র জানায়, খোর মোরের যে স্টোরেজ ট্যাঙ্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্রের আংশিক অর্থায়নে নির্মিত নতুন স্থাপনার অংশ এবং একটি মার্কিন ঠিকাদার দ্বারা নির্মিত।
উত্তর ইরাকে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার স্বশাসন প্রয়োগ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানির বড় বিনিয়োগ রয়েছে।
















