দক্ষিণ থাইল্যান্ডের পানিবন্দি ভূমিতে দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে মানুষের করুণ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৪৫-এ, যার মধ্যে শুধু সঙখলা প্রদেশেই প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ।
এই সপ্তাহে টানা বর্ষণে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল ডুবে যায় অচেনা নিস্তব্ধতায়। বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মালয়েশিয়া সীমান্তঘেঁষা হাট ইয়াই জেলা, যেখানে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি আর যানবাহন নিমিষে জলরাশির নিচে তলিয়ে যায়। হাজারো মানুষ আটকে পড়েন নিজেদেরই ঘরে, অপেক্ষায় থাকেন উদ্ধারকারীদের স্পর্শের।
সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত জানান, পানির স্তর ধীরে ধীরে নামতে শুরু করায় উদ্ধার তৎপরতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ডুবে থাকা বসতবাড়ির ভিতর প্রবেশ করতে পেরেছে উদ্ধারকারী দল, আরও বহু লাশ মিলেছে হাট ইয়াই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
পানি সরে যাওয়ার পরই সঙখলা অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, যেন বন্যার নিস্তব্ধতার ভাঁজ খুলে বেরিয়ে আসছে লুকানো বিপর্যয়ের চিহ্ন।
এই দুর্যোগ জনজীবনকে করে তুলেছে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। রাস্তাঘাট অচল, একতলা ঘরবাড়ি পানির নিচে হারিয়ে গেছে, যানবাহন ডুবে আছে কাদামাটির অজানা গভীরতায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও কিছু এলাকায় বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়ে গেছে।
শুক্রবারের ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, বন্যার স্রোতে ভেঙে পড়া সড়ক, উপড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, ভেসে আসা গৃহস্থালি সামগ্রী আর পথঘাটজুড়ে স্তূপ হয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ। অনেক পরিত্যক্ত গাড়ি উল্টে গেছে, আবার কোথাও দেখা গেছে গাড়ির উপর গাড়ি উঠে গেছে, যেন উন্মত্ত স্রোত তাদের টেনে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছে ভাগ্যের অজানা মোড়ে।
















