যুক্তরাষ্ট্র সাবেক অলিম্পিক স্নোবোর্ডার থেকে মাদকসম্রাটে পরিণত হওয়া রায়ান জেমস ওয়েডিংকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে ১৫ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কানাডা ওয়েডিং-চক্রের সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল ওয়েডিংকে “আধুনিক যুগের পাবলো এস্কোবার” হিসেবে অভিহিত করেন। মেক্সিকোতে লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করা এই ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তি এফবিআইয়ের “টেন মোস্ট ওয়ান্টেড” তালিকায় রয়েছে।
প্যাটেল জানান, ওয়েডিং বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিপুল পরিমাণ কোকেন সরবরাহের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট আকিল ডেভিস বলেন, ওয়েডিং অত্যন্ত সহিংস, বিপজ্জনক এবং প্রচণ্ড অর্থশালী।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বলেন, ওয়েডিং কানাডার সবচেয়ে বড় কোকেন পরিবেশক এবং প্রতি বছর প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে মিলে বছরে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে আনে।
এদিকে, মঙ্গলবার কানাডায় ওয়েডিংয়ের পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে তার আইনজীবী দীপক পরাদকারও রয়েছেন। “অপারেশন জায়ান্ট স্লালম” নামে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার যৌথ অভিযানে এসব গ্রেপ্তার হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসায়লি জানান, পরাদকার ওয়েডিংকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, এক মামলার সাক্ষীকে হত্যা করলে মামলাটি ‘খারিজ’ হয়ে যেতে পারে। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কলম্বিয়ার মেডেলিন শহরের একটি রেস্টুরেন্টে ওই সাক্ষীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এসায়লি বলেন, ওয়েডিং ওই সাক্ষীর মাথার ওপর পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এবং ভুলভাবে বিশ্বাস করেছিল যে, তাকে হত্যা করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেয়া হবে।
কানাডায় গ্রেপ্তার আরেক ব্যক্তি গুরচেওয়াক সিং বল একটি ভুয়া সংবাদমাধ্যম “দ্য ডার্টি নিউজ” পরিচালনা করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই সাক্ষী ও তার স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করেছিলেন যাতে তাদের খুঁজে বের করে হত্যা করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, মেডেলিন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরিয়ে দিতে আরও ২ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। কানাডায় গ্রেপ্তার সাতজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ওয়েডিং ও তার নেটওয়ার্কের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশ কমিশনার মাইকেল দ্যুহেম জানান, ওয়েডিং এখনও কানাডার জননিরাপত্তার জন্য “শীর্ষ হুমকিগুলোর একটি”।
















