ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধের হুমকি নিয়ে বেশি কথা বললেও, একাধিক যুদ্ধের কারণে দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ ও অর্থনৈতিক চাপ নির্বাচনী আলোচনায় তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না।
ইসরায়েলি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের যুদ্ধে দেশটির প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল ব্যয় হয়েছে। এর বাইরে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আরও প্রায় ৩৫ বিলিয়ন শেকেল ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শুধু প্রতিরক্ষা খাতেই ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৯ বিলিয়ন শেকেল।
যুদ্ধের ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটির জাতীয় ঋণও বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে যেখানে জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ০৭ ট্রিলিয়ন শেকেল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন শেকেলে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধের কারণে প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে উচ্চ আয়ের নাগরিকদের দেশত্যাগও অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় দেশের সর্বোচ্চ আয়কারী দশ শতাংশ মানুষের মধ্যে দেশত্যাগের হার প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থনৈতিক চাপের আরেকটি কারণ হিসেবে অতি-ধর্মীয় ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিষয়টিও সামনে এসেছে। এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পায় এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাদের কর্মসংস্থানের হারও জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম।
তবে অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও চলতি বছরে ইসরায়েলের অর্থনীতি প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি আয় এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধের ব্যয় ও প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দ আরও বাড়তে থাকলে ঋণের বোঝা কমানো কঠিন হবে। ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর বাড়ানো অথবা বেসামরিক খাতে ব্যয় কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতিতে এসব কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট আলোচনা খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধের ব্যয় অব্যাহত থাকলে এবং ঋণ আরও বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে সরকারের অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশে সরকারি ঋণপত্র বিক্রির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাধা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলের সামনে এখন তাই শুধু নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি মোকাবিলার প্রশ্ন নয়; দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আর্থিক বোঝা কীভাবে সামলানো হবে, সেটিও বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
















