কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগে তাঁর দল সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের আইনজীবী নাঈম পাঞ্জুথা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কায় চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য দুই দিনের মধ্যে তাঁকে সেখানে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল।
তবে কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও পরীক্ষার সময় সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তাঁর দল।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে ইমরান খানের দল আদালতের নির্দেশের ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, অন্তত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাঁকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার কথা ছিল।
ইমরান খানের সমর্থকেরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামাবাদের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন এবং হাসপাতালের বাইরেও সমাবেশ করেন। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ফয়সাল সুলতান ও তাঁর বোনেরা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দল দাবি করে আসছে, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে।
দলটির নেতারা বলছেন, হাসপাতাল নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের চাপ আরও বাড়াবে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পিত বিক্ষোভের প্রস্তুতিও এর ফলে জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
















