ভারতের আসামে ভূমি ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত এক আদিবাসী অধিকারকর্মীকে আদালত জামিন দেওয়ার পরপরই জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের কাছে একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পের জন্য কৃষিজমি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চারণভূমি বরাদ্দ দেওয়ার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওই অধিকারকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই প্রায় ৩০ থেকে ৬০ বিঘা জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা, ঐতিহ্যগত ভূমির অধিকার এবং সংবেদনশীল পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জুলাই মাসে গ্রেপ্তারের পর ওই কর্মীর বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে জেলা আদালত তাকে জামিন দেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসাম সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করে। আরও কয়েকজন আটক কর্মী জামিন পেলেও তাদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনাটির প্রতিবাদে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, বামপন্থী দল এবং প্রধান বিরোধী দল সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভূমি, জীবিকা ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করা একজন গণতান্ত্রিক কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আটক আইনের ব্যবহার মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত।
কাজিরাঙা এলাকার আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ও পর্যটন প্রকল্পের জন্য তাদের জমি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। প্রস্তাবিত বিলাসবহুল হোটেলটি বন্যপ্রাণীর চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশ ও অধিকারকর্মীদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে, তবে স্থানীয় মানুষের ভূমি ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো আটক ব্যক্তির বিষয়টি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক তদারকির মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে ভূমি ও পরিবেশ রক্ষার দাবি জানানো কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।
















