কাশ্মীর ও লাদাখে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত শুভেচ্ছা বিদ্যালয়গুলো প্রত্যন্ত এলাকার স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার কারণে কাশ্মীরের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে শিশুদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুভেচ্ছা অভিযানের আওতায় বর্তমানে কাশ্মীর ও লাদাখে ৪৩টি বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং প্রায় এক হাজার শিক্ষক ও কর্মী কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের অংশ প্রায় ৪৩ শতাংশ।
এসব বিদ্যালয়ে প্রচলিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার এবং খেলাধুলার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের কারণে অনেক পরিবার সন্তানদের দূরের আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন থেকে মুক্ত হয়েছে। এতে কম খরচে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবারের কাছাকাছি রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুরুতে এসব বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রচারণা ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। একটি বিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করেন এবং বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর জন্য সেনাবাহিনীর কাছে অনুরোধ জানান। পরে বিদ্যালয়টি আবার চালু হলে স্থানীয়রাও তাদের সন্তানদের সেখানে পাঠানো অব্যাহত রাখেন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিদ্যালয় বর্জনের আহ্বানও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাখ্যান করেন। দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যেও এসব বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
















