স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হ্যারিসন শার্পলস নিজে লেখা গবেষণাপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগে একাডেমিক তদন্তের মুখে পড়েছিলেন। ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী জানান, তিনি গবেষণাপত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারই করেননি এবং পর্যাপ্ত সময় থাকায় নিজে লিখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছিলেন।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের উদ্বেগ কমাতে খেলাধুলাভিত্তিক চিকিৎসার প্রভাব নিয়ে লেখা তাঁর গবেষণাপত্রটি দুইজন মানব পরীক্ষক মূল্যায়ন করেন। তাঁদের একজন লেখাটির ‘অতিরিক্ত পরিপাটি ও অভিন্ন’ ভাষা, নিখুঁত ব্যাকরণ, একই ধরনের বাক্যগঠন এবং এআইয়ের মতো কাঠামোবদ্ধ অনুচ্ছেদ দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পুনরাবৃত্ত শব্দচয়ন, তুলনামূলকভাবে কম সূক্ষ্ম সমালোচনা এবং অতিরিক্ত ড্যাশ ব্যবহারের বিষয়ও সন্দেহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের পর হ্যারিসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলের একটি শুনানিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। তবে শুনানির দিন নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পর তিনি ভার্চুয়াল বৈঠকের সংযোগ পান। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। শুনানিতে তাঁকে গবেষণাপত্রে ব্যবহৃত চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শব্দের অর্থ ও লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।
প্রথম শুনানির এক সপ্তাহ পর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর বিরুদ্ধে এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল রাখে। এর ফলে তাঁর নম্বর সাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় এবং বিষয়টি ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পেশাগত রেকর্ডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এ অবস্থায় হ্যারিসন আপিল করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পরে স্বীকার করে যে প্রথম শুনানির সময় সংযোগ দিতে দেরি হওয়ায় তাঁর নিজের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন শুনানিতে তাঁকে মূলত গবেষণাপত্র লেখার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এবার অভিযোগ বহাল রাখা হয়নি। শেষ পর্যন্ত হ্যারিসন গবেষণাপত্রে পূর্ণ নম্বর পান এবং তাঁর পেশাগত রেকর্ডেও কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
তবে পুরো ঘটনাটি তাঁর পড়াশোনা ও ব্যক্তিজীবনে বড় প্রভাব ফেলে। অভিযোগের কারণে তিনি এক সেমিস্টারের পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন এবং তাঁর স্নাতক হওয়ার সময় ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁকে এতটাই মানসিক চাপে রেখেছিল যে অন্য পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এআই নীতিবিষয়ক পরামর্শক সিদরাহ হাসানের মতে, বর্তমান এআই শনাক্তকারী সরঞ্জামগুলো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এগুলোর ভুল শনাক্ত করার হারও বেশি। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের অভিযোগে ধরার চেষ্টা ভবিষ্যতের সমাধান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পদ্ধতিই পরিবর্তন করতে হবে।
সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কোনো মামলার বিষয়ে তারা মন্তব্য করবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃহত্তর শিক্ষাক্ষেত্রে একাডেমিক কাজে এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে।
















