আইফোনের একটি তুলনামূলকভাবে অজানা সুবিধা ‘ভেহিকল মোশন কিউস’ গাড়ি বা চলন্ত যানবাহনে ফোন ব্যবহারের সময় মোশন সিকনেস বা বমিভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। ফিচারটি পর্দার চারপাশে ছোট ছোট চলমান বিন্দু দেখায়, যা ফোনের অ্যাক্সিলেরোমিটারের মাধ্যমে যানবাহনের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নড়াচড়া করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলন্ত অবস্থায় চোখ স্থির কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকলেও শরীরের ভেতরের ভারসাম্য-ব্যবস্থা নড়াচড়া অনুভব করে। এই পার্থক্য থেকে মাথা ঘোরা, দিশেহারা ভাব ও বমিভাব তৈরি হতে পারে। পর্দার বিন্দুগুলো শরীরকে যানবাহনের গতিবিধি সম্পর্কে দৃশ্যমান সংকেত দেওয়ায় এই অসামঞ্জস্য কিছুটা কমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টেন স্টিনারসন জানান, শরীর কীভাবে মহাকাশে নড়াচড়া করছে তার ধারণা দিতে এ ধরনের দৃশ্যমান সংকেত মোশন সিকনেস কমাতে সহায়ক হতে পারে। চলমান তরলযুক্ত বিশেষ বমিভাব-রোধী চশমা নিয়েও একই ধরনের ধারণার ভিত্তিতে গবেষণা হয়েছে।
আইফোনে ফিচারটি চালু করতে সেটিংসের অ্যাক্সেসিবিলিটি, এরপর মোশন এবং তারপর ভেহিকল মোশন কিউস অপশনে যেতে হয়। এটি সবসময় চালু রাখা অথবা ফোন নিজে যানবাহনের গতি শনাক্ত করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। বিন্দুর আকার ও রঙও পরিবর্তন করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েডেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়ার কিছু অ্যাপ রয়েছে।
তবে ফিচারটির কার্যকারিতা নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এক নয়। কেউ কেউ এটিকে মোশন সিকনেসের জন্য খুব কার্যকর বলে মনে করছেন, আবার অনেকে কোনো উপকার পাননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে ফোনের দিকে তাকানোর কারণে যাদের গাড়িতে বমিভাব হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি উপকারী হতে পারে।
তবে এর একটি অদ্ভুত দিকও রয়েছে—মোশন সিকনেস কমানোর জন্য যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি আবার মানুষকে আরও বেশি সময় ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে উৎসাহিত করছে। তাই যাত্রাপথে বমিভাব এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে ফোনটি একপাশে রেখে বাইরে তাকানোর পরামর্শও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
















