যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা করেছেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সামরিক সদস্যদের জন্য বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরন স্ক্রিনিং চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মদক্ষতা বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ বছরের বেশি বয়সী সেনাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য মূল্যায়নের সঙ্গে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হবে। ৩০ বছরের কম বয়সীরা চাইলে স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসা বা টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত থাকবে।
পিট হেগসেথ বলেন, এই উদ্যোগ কৃত্রিমভাবে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নয়; বরং সেনাদের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৫ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টে এ বিষয়ে বিদ্যমান পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩০ বা ৪০ বছরের পর প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ শতাংশ হারে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে থাকে।
তবে নতুন কর্মসূচি রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন, ট্রান্সজেন্ডার সেনাসদস্যদের বিষয়ে হেগসেথের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে এই উদ্যোগ সাংঘর্ষিক। কেউ কেউ নারী সেনাদের জন্যও একই ধরনের হরমোন পরীক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছেন, কারণ সামরিক বাহিনীতে নারীদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব-সংক্রান্ত সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন স্ক্রিনিং কর্মসূচি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও এর চিকিৎসাগত, নীতিগত এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র, পিট হেগসেথ, মার্কিন সামরিক বাহিনী, টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা, প্রতিরক্ষা নীতি
















