কেনিয়ার প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চলে পোলিওর সম্ভাব্য সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন কমিউনিটি স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীরা। দুর্গম গ্রাম ও যাযাবর জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই আক্রান্ত শিশুদের খুঁজে বের করে নমুনা সংগ্রহ করছেন তারা।
দেশটিতে বহু বছর ধরে বন্য পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ না থাকলেও টিকাজনিত পরিবর্তিত ভাইরাস কম টিকাপ্রাপ্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও যাযাবর জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি হওয়ায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রাজধানী এলাকায় নর্দমার পানির নমুনা পরীক্ষা করে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেই সুযোগ নেই। তাই স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাই হঠাৎ হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে দ্রুত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, লক্ষণ দেখা দেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা না গেলে রোগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্গম এলাকায় ছুটে যান স্বেচ্ছাসেবীরা।
সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ আরও কঠিন। পানি ও চারণভূমির সন্ধানে যাযাবর পরিবারগুলো নিয়মিত সীমান্ত পার হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের খুঁজে পাওয়া এবং তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনই এই কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবারগুলোর সহযোগিতা না পেলে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না, ফলে সংক্রমণ অজানাই থেকে যেতে পারে।
কেনিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষাগার, সীমান্ত সমন্বয় এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টাই পোলিও নির্মূলে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
















