জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে সাম্প্রতিক ‘হিট ডোম’ পরিস্থিতিতে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এ বাস্তবতায় লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিনিক্স, লাস ভেগাস, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহর অতিরিক্ত তাপের প্রভাব কমাতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে এলাকায় কংক্রিট, অ্যাসফল্ট ও গাছপালার অভাবের কারণে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব সৃষ্টি হয়, যেখানে আশপাশের তুলনায় তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকে। এতে শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ফিনিক্সে উষ্ণ এলাকাগুলোতে হাজারো গাছ লাগানো হচ্ছে, আর টুসনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে আর্থিক সহায়তা দিয়ে গাছ রোপণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকো নতুন ভবনের ছাদে সবুজায়ন বা সৌর প্যানেল বাধ্যতামূলক করেছে, যা ভবনের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করছে।
একই সঙ্গে অনেক শহরে সাদা বা প্রতিফলক রঙের ছাদ ও সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিফলক সাদা ছাদ গ্রীষ্মে প্রচলিত ছাদের তুলনায় কয়েক দশ ডিগ্রি পর্যন্ত ঠান্ডা থাকতে পারে। নিউইয়র্ক ইতোমধ্যে লাখ লাখ বর্গফুট ছাদে সাদা প্রলেপ দিয়েছে, আর লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফিনিক্স পরীক্ষামূলকভাবে সড়কে বিশেষ প্রতিফলক আবরণ ব্যবহার করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদ্ধতিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং একক কোনো সমাধান যথেষ্ট নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে তাপমাত্রার মানচিত্র তৈরি করা। লাস ভেগাস ও আলবুকার্কিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকার তাপমাত্রা পরিমাপ করে কোন এলাকাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে তা শনাক্ত করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কুলিং সেন্টার, গাছ লাগানো এবং নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের শহরকে চরম তাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে একসঙ্গে সবুজায়ন, প্রতিফলক অবকাঠামো, উন্নত নগর পরিকল্পনা, ছায়া বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নচেৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নগরজীবনের সংকট আরও গভীর হবে।
















