পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই এখন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এতে একদিকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও অন্যদিকে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম বারো দিনেই অন্তত দশটি কোয়াডকপ্টার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় নয়জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ষাটটি হামলায় ছত্রিশজন নিহত এবং একশোর বেশি মানুষ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তান, বান্নু, বাজাউর এবং বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি, নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের ওপর আঘাত হানার ঘটনা রয়েছে। বেশ কয়েকটি হামলায় শিশু ও নারীসহ বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম খরচের এসব কোয়াডকপ্টার এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য কার্যকর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। নজরদারি, বিস্ফোরক বহন এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য এগুলো ক্রমেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে একই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। বিভিন্ন অভিযানে বহু সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও এসব অভিযানে বেসামরিক প্রাণহানির অভিযোগও উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ বিশেষ ড্রোন ইউনিট গঠন করেছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শতাধিক সম্ভাব্য ড্রোন হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন জেলা পুলিশ ইউনিটের কাছে উন্নতমানের নজরদারি ড্রোনও হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে আকাশপথে পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আরও কার্যকর হয়। তবে এসব পদক্ষেপের পরও নতুন হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোয়াডকপ্টার প্রযুক্তির বিস্তার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে জবাবদিহি, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
















