শিশু ও কিশোরদের অ্যাপ ব্যবহারে বয়স যাচাই এবং অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার একটি আইন কার্যকরের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চললেও আপাতত এটি কার্যকর রাখতে বাধা দেয়নি আদালত।
দুই হাজার পঁচিশ সালে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর স্বাক্ষরিত এই আইনে বলা হয়েছে, আঠারো বছরের কম বয়সীদের অ্যাপ ব্যবহারের হিসাব অবশ্যই কোনো অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। কোনো শিশু বা কিশোর নতুন অ্যাপ নামাতে চাইলে কিংবা অ্যাপের ভেতরে কেনাকাটা করতে চাইলে আগে অভিভাবককে তার বয়স উপযোগিতা সম্পর্কে জানানো এবং অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।
অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান ডিজিটাল পরিবেশে শিশুরা খুব সহজেই অভিভাবকদের অজান্তে নানা ধরনের অনলাইন বিষয়বস্তুতে প্রবেশ করতে পারে। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে এই আইন প্রয়োজনীয়।
তবে আইনটির বিরোধিতাকারীরা বলছেন, এটি শিশু সুরক্ষার সীমা অতিক্রম করে নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করছে।
আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী, একটি শিক্ষার্থী অধিকার সংগঠন এবং প্রযুক্তি খাতের একটি বাণিজ্যিক সংগঠন। তাদের দাবি, প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে বয়স প্রমাণে বাধ্য করা সংবিধানে নিশ্চিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি সংবাদপত্র পড়তে, বইয়ের দোকানে প্রবেশ করতে বা সাধারণভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গেলে আগে কখনও বয়স প্রমাণ করতে হয়নি। নতুন আইনটি কার্যত সেই ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করছে।
গত বছরের শেষ দিকে এক ফেডারেল বিচারক আইনটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। তার পর্যবেক্ষণ ছিল, এটি এমন এক ব্যবস্থার মতো, যেখানে বইয়ের দোকানে প্রবেশের আগেই সবার বয়স যাচাই করা হবে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বই কিনতে অভিভাবকের অনুমতি লাগবে।
তবে পরে আপিল আদালত আইনটি কার্যকর রাখার অনুমতি দেয়। আদালত জানায়, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে অভিভাবকদের যথাযথ তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালত আপিল আদালতের সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করায় এখন আইনটি কার্যকর থাকবে। এদিকে মামলার মূল শুনানি নিম্ন আদালতে চলতে থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে নতুন আইন ও বিধিনিষেধ গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। এর লক্ষ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কার্যক্রমে অভিভাবকদের তদারকি বাড়ানো।
















