ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে আবারও গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইকে পাঁচ বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে প্রকাশিত এক বার্তায় পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের প্রধানকে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার, বিচারব্যবস্থায় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং বিদেশি আগ্রাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তেহরানে আলি খামেনি ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের দাফন অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট, সাবেক প্রেসিডেন্ট, সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।
পুনর্নিয়োগের পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে মোহসেনি-এজেই বলেন, দেশের মানুষের প্রতিশোধের দাবি কেবল আবেগের বিষয় নয়; ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে দায়ীদের এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শত্রুপক্ষ পুনরায় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস না পায়।
তিনি আরও জানান, দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাসংক্রান্ত অপরাধের বিচারও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোধী মতাবলম্বী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটক বহু মানুষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের প্রধান দেশের বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারক নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। এছাড়া তিনি সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান, প্রধান কৌঁসুলি এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য মনোনয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের প্রধানকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরিবর্তে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
















