সুদানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষে নতুন করে পাঁচ হাজার পাঁচশোর বেশি শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আরও হাজারো শিশু ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সংস্থাটি জানায়, এল-ওবেইদ ও আশপাশের এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপে সীমিত সম্পদের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের আবাসস্থল এল-ওবেইদ দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পশ্চিম সুদানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে এটি সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
শহরটি কয়েক মাস ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং জ্বালানি ও পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
এল-ওবেইদের এক বাসিন্দা জানান, জুন মাসজুড়ে শহর ও আশপাশে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় একাধিক জ্বালানি কেন্দ্র, জ্বালানিবাহী ট্যাংকার এবং পানিবাহী যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
অবরুদ্ধ পরিস্থিতি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড়ের কারণে মৌসুমি কলেরার প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অন্তত তিনশটি সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। অনেক শিশু সহিংসতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েছে, স্বজন হারিয়েছে অথবা গত তিন বছরে একাধিকবার বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সুদানজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় পঞ্চান্ন শতাংশই আঠারো বছরের কম বয়সী শিশু। তাদের জন্য বাস্তুচ্যুত হওয়া শুধু বাসস্থান হারানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, আগে যেমন অবরুদ্ধ অন্য একটি শহরে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, এল-ওবেইদও একই ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।
দুই হাজার তেইশ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমাধান অর্জিত হয়নি।
















