দশ বছর পূর্ণ করেছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং নতুন উন্নয়ন ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার সময় অনেকের ধারণা ছিল, এই দুটি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত কাঠামো আমূল বদলে দেবে। তবে এক দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, তারা নতুন বিকল্প তৈরি করলেও বিদ্যমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুটি ব্যাংকই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অবকাঠামো খাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়িয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রতিনিধিত্ব জোরদার করেছে। তবে পরিচালনা পদ্ধতি, নীতিমালা ও কার্যক্রমে তারা অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর ধারা অনুসরণ করেছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। অন্যদিকে নতুন উন্নয়ন ব্যাংকও সদস্য বাড়িয়েছে এবং ঋণ, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতে অর্থায়নের পরিধি সম্প্রসারণ করেছে।
তবে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কিছু পার্থক্যও রয়েছে। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকে একটি দেশের মূলধনের অংশ উল্লেখযোগ্য হওয়ায় সেই দেশের প্রভাব বেশি বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে নতুন উন্নয়ন ব্যাংক মূলত সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে এবং পশ্চিমা দেশগুলো এর সদস্য নয়।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন উন্নয়ন ব্যাংক স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ ও অর্থায়নের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, যাতে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। তবে আন্তর্জাতিক ঋণবাজার ও ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
আকার ও সক্ষমতার দিক থেকেও দুটি প্রতিষ্ঠান এখনো বিশ্বের পুরোনো উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক ছোট। প্রকল্প সংখ্যা ও অর্থায়নের পরিমাণ বাড়লেও তা এখনো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর তুলনায় অনেক কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি ব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে। তবে তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত কাঠামোকে ভেঙে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবেই বেশি ভূমিকা পালন করছে।
















