সাবেক সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ে লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি। রাজধানীর অনেক বাসিন্দা বলছেন, তার প্রকাশ্যে না আসা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তিনি পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই অনুপস্থিত ছিলেন।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। তবে এ অনুপস্থিতিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে থাকতে পারেন।
রাজধানীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অতীতে সংকটময় সময়ে দেশের শীর্ষ নেতাকে প্রকাশ্যে দেখা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করত। এখন সেই দৃশ্য না থাকায় অনেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
অন্যদিকে, অনেকের মতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নেতার প্রকাশ্যে না আসাই স্বাভাবিক। তাদের বিশ্বাস, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং কেবল জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকাকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এদিকে প্রতিবেশী দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করলে বর্তমান নেতৃত্বও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশ।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় দেশটির সামরিক, গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি নিহত বা আহত হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি জনমনে বিভ্রান্তি ও গুঞ্জন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, নিরাপত্তাজনিত বাস্তবতা বিবেচনায় কিছুদিন জনসমক্ষে না আসার যৌক্তিকতা থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি বজায় রাখা কঠিন হবে। শেষ পর্যন্ত জনগণের সামনে উপস্থিত হয়ে নেতৃত্বের সক্ষমতা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সম্পর্কে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
















