দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গত মাসে আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার পাঁচশর বেশি হয়েছে। আহতের সংখ্যা প্রায় সতেরো হাজারে পৌঁছেছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৩৫ জনে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং ১৭ হাজার ৮৫৪ জন তাদের বসতবাড়ি হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চল ও রাজধানী এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ১২ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
উদ্ধার কার্যক্রম চললেও এখনো অনেক এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গণকবর খনন করে নিহতদের দাফনের কাজ চলছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ৬০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ধ্বংসস্তূপে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা আহতদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেকের চিকিৎসা এখনো সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি, আর দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাও অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি এবং আশ্রয়কেন্দ্রের উন্নত ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনেক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী, মানবিক সংস্থা ও সাধারণ মানুষই উদ্ধার এবং সহায়তা কার্যক্রমের মূল দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
















