কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উচ্চক্ষমতার চিপ পাচারের অভিযোগে সিঙ্গাপুরে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ জব্দ করেছে দেশটির পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বাড়িটি কেনার অর্থের বড় অংশ এসেছে অবৈধ আয়ের মাধ্যমে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলাও করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির মূল্য কয়েকশ কোটি টাকার সমান। এর ক্রয়মূল্যের উল্লেখযোগ্য অংশ অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তিটি বিক্রি বা হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চক্ষমতার সার্ভার কেনার সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে এসব সার্ভারে থাকা উন্নত চিপের গন্তব্য গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। যদিও এগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা হলে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা এ ধরনের তদন্তে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর সরকার বলেছে, দেশটিকে একটি বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বজায় রাখতে অবৈধ প্রযুক্তি পাচার ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির চিপ রপ্তানিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এসব পণ্য অবৈধভাবে স্থানান্তরের প্রচেষ্টা বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
















