বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে চলতি বছরের জুন মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় উষ্ণতা রেকর্ড করা হয়েছে। জলবায়ু পর্যবেক্ষকদের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসজুড়ে সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল এবং সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ সমুদ্রজুড়ে তীব্র সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর, উত্তর আটলান্টিকের মধ্যাঞ্চল এবং প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি উষ্ণ হয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরে শক্তিশালী উষ্ণ সমুদ্রপ্রবাহের প্রভাব শুরু হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে নতুন নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানলের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসাগর পৃথিবীর অতিরিক্ত তাপের বড় অংশ শোষণ করে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। উষ্ণ সমুদ্র বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প সরবরাহ করে, যা শক্তিশালী ঝড় ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রবালপ্রাচীর ধ্বংসের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
জলবায়ু গবেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
















