যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ১২ বছর বয়সী শিশু।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ড্রোন হামলায় শিশুটি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আল-মাওয়াসি এলাকাকে আগে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হলেও সেখানে ধারাবাহিকভাবে হামলার অভিযোগ উঠছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক হাজার ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং তিন হাজার ২৮০ জন আহত হয়েছেন। আর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪১ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৪০২ জন।
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জাতিসংঘ তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা চলমান গণহত্যার অংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও শিশুদের হত্যা ও আহত হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের আল-ইয়ামুন শহরেও ইসরায়েলি অভিযানে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ২৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি নিহত হন এবং তার মরদেহও ফেরত দেওয়া হয়নি।
ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী একটি বাড়ি ঘিরে গুলি চালায় এবং আহত অবস্থায় তাকে রক্তক্ষরণে মারা যেতে ফেলে রাখে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের সময় তারা একটি নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছিল।
সরকারি ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ১৭৩ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ২৩ হাজার এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ।
















