মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি) ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার নিট লোকসান করেছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ ডলার।
প্রতিষ্ঠানটির মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দেওয়া নথি অনুযায়ী, লোকসানের বড় অংশ এসেছে ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল সম্পদ জামানত এবং বিভিন্ন শেয়ার থেকে ১৯ কোটি ৪ লাখ ডলারের অবাস্তবায়িত লোকসানের কারণে। এর বাইরে ঋণের জমা হওয়া সুদ বাবদ ১ কোটি ১৭ লাখ ডলার এবং শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক বাবদ ৮১ লাখ ডলার লোকসান হয়েছে।
তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে টিএমটিজির আয় ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। মোট আয়ের প্রায় পুরোটাই এসেছে প্রতিষ্ঠানটির গণমাধ্যমভিত্তিক ব্যবসা থেকে। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ ডলার।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার, বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ডলার। লোকসানের খবর প্রকাশের পর সোমবার বাজার বন্ধের সময় টিএমটিজির শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়।
টিএমটিজির ব্যবসার মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল, ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা ট্রুথ প্লাস এবং আর্থিক প্রযুক্তিভিত্তিক ব্র্যান্ড ট্রুথ ফাই। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টোকারেন্সির পাশাপাশি বাজারসংক্রান্ত তথ্যসেবা ট্রুথ এপিআই ব্যবসাতেও প্রবেশ করেছে।
আগস্টের শুরুতে চালু হওয়া ট্রুথ এপিআই ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে দ্রুত প্রবেশাধিকার দেয়। ট্রাম্পের নীতিগত ঘোষণা, শুল্কনীতি ও ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ নিয়ে তাঁর পোস্ট বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে এই সেবাকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ১০টি কোম্পানি এ সেবায় যুক্ত হয়েছে এবং মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিচ্ছে।
তবে ট্রুথ সোশ্যাল এখনও এক্স ও ফেসবুকের মতো বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে ব্যবহারকারীর সংখ্যায় প্রতিযোগিতা করতে পারেনি। অনলাইন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে ট্রুথ সোশ্যালের দর্শনার্থীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমেছে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব ও তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বাজারগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও টিএমটিজির আয় ও লোকসানের ব্যবধান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। বিশেষ করে ডিজিটাল সম্পদনির্ভর বিনিয়োগ ও নতুন সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি মূল গণমাধ্যম ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত আয় তৈরি করতে না পারা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
















