ইরান যুদ্ধ নিয়ে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে প্রত্যাশিত সহযোগিতা করেনি।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কারও সহায়তা ছাড়াই সফল হয়েছে। তবে ন্যাটো মিত্ররা অন্তত সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারত। তিনি জানান, এ বিষয়ে মহাসচিবের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
জবাবে মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। তার দাবি, যুদ্ধ চলাকালে ইউরোপের সামরিক ঘাঁটি থেকে হাজারো মার্কিন সামরিক বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে, যা অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ছিল।
রুটে সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির তথ্যও তুলে ধরেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তবে সমালোচকদের মতে, ইরান হামলার সময় দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে ছিল—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এই সামরিক অভিযানকে অপ্রয়োজনীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলেও মন্তব্য করেছেন।
বৈঠকে ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দেন যে, ন্যাটোর প্রতি তার আস্থাহীনতা পুরোপুরি কাটেনি। যদিও তিনি মার্ক রুটের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বর্তমান মহাসচিবের সঙ্গে কাজ করা সহজ হয়েছে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল সীমিত করলেও সাম্প্রতিক সমঝোতার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে ন্যাটো সদস্যদের এই নৌপথের নিরাপত্তায় সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও কোনো সদস্য দেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
















