ইবোলা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে হামলার ঘটনা বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং সংক্রমণ কঙ্গো ও উগান্ডাজুড়ে বিস্তার লাভ করতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রুয়ামপারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একটি দল হামলা চালায়। তারা ইবোলায় মারা যাওয়া স্বজনদের মরদেহ ফেরত দাবি করছিল। এলাকায় কাজ করা কঙ্গো সরকারের সহযোগী সংস্থাগুলোও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পরদিন ইতুরি প্রদেশের মংগবালু হাসপাতালে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসহায়তা সংস্থার একটি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সংস্থাটি জানায়, ইবোলা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক রোগীর মরদেহ নিরাপদ দাফনের প্রস্তুতির সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুটি তাঁবুতে আগুন দেওয়া হয়।
ইবোলা আক্রান্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন। কারণ সংক্রমণ ঠেকাতে মরদেহ বিশেষ নিয়মে দাফন করতে হয়, যা অনেকের কাছে সাংস্কৃতিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে বলে মনে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা গ্লোয়ার ইদ্রিস বলেন, “অনেকে মনে করেন ইবোলা একটি ব্যবসা। স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন মরদেহ পরিবারের কাছে দিতে চান না, তখন মানুষ সন্দেহ করে অঙ্গ পাচার করা হচ্ছে।”
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কাম্বা বলেন, ইবোলায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক থাকে এবং প্রশিক্ষিত দল ছাড়া অন্য কারও তা স্পর্শ করা উচিত নয়।
পূর্ব কঙ্গোতে মৃত ব্যক্তিকে শেষ বিদায় জানানোর অংশ হিসেবে স্বজনরা মরদেহ স্পর্শ করে থাকেন। কিন্তু ইবোলা পরিস্থিতিতে এই রীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মংগবালুর এক বাসিন্দা বলেন, “আমার মেয়ে গত মাসে ইবোলায় মারা গেছে। আমরা তাকে শেষবারের মতো ছুঁতেও পারিনি। আমাদের সাংস্কৃতিক রীতিও পালন করতে দেওয়া হয়নি।”
শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৮০০ সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সংক্রমণ ঠেকাতে ইতুরি কর্তৃপক্ষ জনসমাগম সীমিত করেছে, শোকসভা স্থগিত করেছে এবং মরদেহ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া নিষিদ্ধ করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রদ্রিগেজ কিসান্দো বলেন, গুজব ও ভুল তথ্যের কারণেই চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনা বাড়ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “রোগীরা চিকিৎসা শেষ না করেই পালিয়ে গেলে এবং হামলার ঘটনা চলতে থাকলে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়াবে।”
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাসামগ্রী, শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সহায়তা সংস্থাগুলো।
এদিকে আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ১০টি আফ্রিকান দেশকে উচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। দেশগুলো হলো দক্ষিণ সুদান, রুয়ান্ডা, কেনিয়া, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, অ্যাঙ্গোলা, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও জাম্বিয়া।
কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান সীমান্ত নজরদারি, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও পরীক্ষাগার সক্ষমতা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
















