যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মধ্যে চুক্তির বেশিরভাগ বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইন আলোচনায় যুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে এবং খুব শিগগিরই বিস্তারিত ঘোষণা আসবে।
তবে ইরান জানিয়েছে, এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, সম্ভাব্য চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও রয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের অংশ এবং এটি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক জলসীমা নয়। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে হয়। ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি তুলেছে। তবে তেহরান বলছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য চুক্তি সফল করতে ইসরায়েলের অবস্থান বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
















