অনলাইন ডেটিংয়ে ভুয়া পরিচয়, প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্যের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে নতুন কিছু ডেটিং প্ল্যাটফর্ম এখন “বাস্তব মানুষ” খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
লন্ডনের ক্রয়ডনের বাসিন্দা ডেনি স্মিথ একসময় সামরিক ইতিহাসভিত্তিক একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে বুঝতে পারেন, প্রচলিত ডেটিং অ্যাপগুলো তার মতো “গিক” বা বিশেষ আগ্রহসম্পন্ন মানুষের জন্য উপযোগী নয়।
তার অভিযোগ, অনেক ডেটিং প্ল্যাটফর্মে ভুয়া প্রোফাইল ও প্রতারণার ঘটনা বেড়ে গেছে। এরপরই তিনি তৈরি করেন “গিক মিট ক্লাব”, যেখানে সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করা হয়।
ডেনি বলেন, “আমি খুব সহজেই ভুয়া প্রোফাইল ধরতে পারি। একবার একজন ব্রিটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করেছিল।”
তার প্ল্যাটফর্মে মাসে প্রায় ৫০ জন আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় শুধুমাত্র সন্দেহজনক তথ্যের কারণে।
এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য অনলাইনের বদলে দ্রুত মানুষকে সামনাসামনি দেখা করার সুযোগ করে দেওয়া। মাসিক কুইজ, আড্ডা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সদস্যদের বাস্তবে পরিচিত হতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
একইভাবে প্রতারণা ঠেকাতে “চেরি ডেটিং” নামের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম সদস্যদের পরিচয়পত্র ও সেলফি মিলিয়ে যাচাই করে।
প্রতিষ্ঠাতা জো ম্যাসন বলেন, “অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না অন্য প্রোফাইলটি আসল কি না। কাউকে বিশ্বাস করার আগে যেন গোয়েন্দাগিরি করতে হয়।”
এই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে সামঞ্জস্যও নির্ধারণ করা হয়। কারও সঙ্গে কত শতাংশ মিল রয়েছে তা জানিয়ে সম্ভাব্য সম্পর্ক বেছে নিতে সাহায্য করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, বর্তমানে কোনো ডেটিং অ্যাপ তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। আর ৪০ শতাংশ বলছেন, এসব অ্যাপ তাদের সম্পর্কে আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।
আরেক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী নিজেদের প্রোফাইল আকর্ষণীয় করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছেন।
ডেটিং প্রশিক্ষক জসলিন পেনক বলেন, অনেকেই নিজেদের অনুভূতি বা ব্যক্তিত্ব ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষকে বাস্তবে দ্রুত দেখা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি নিজেও একবার বাস্তব জীবনে “ঘোস্টিং”-এর শিকার হন। এক ব্যক্তির সঙ্গে পানশালায় দেখা করার পর লোকটি পানীয় আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।
জসলিনের ভাষায়, “প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু অন্তত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনো কাউকে এভাবে অসম্মান করতে শেখেনি।”
















