মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চার দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন। সফরের শুরুতেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
শনিবার শুরু হওয়া এ সফরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে রুশ তেল কেনা নিয়ে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক উত্তেজনার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কমানোর চেষ্টা চলছে।
সফরে জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে ভারত জ্বালানি সংকটে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
নয়াদিল্লিতে নতুন মার্কিন দূতাবাস ভবনের একটি অংশ উদ্বোধন করেন রুবিও। এ সময় তিনি বলেন, এটি দুই দেশের সম্পর্কের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতীক।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও ও মোদি বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে যৌথ কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সফরের শেষদিকে চতুর্পক্ষীয় নিরাপত্তা জোটের বৈঠকে অংশ নেবেন রুবিও। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এ জোট মূলত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে গত বছর ভারত রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখায় দেশটির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারত এখনো রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরে রুবিও ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে আরও বেশি তেল আমদানির বিষয়ে চাপ দিতে পারেন।
ইরান ইস্যুও সফরের বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। রুবিও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি আবারও ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের মার্কিন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যদিও তেহরান বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর পাকিস্তর সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতাও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে কলকাতায় পৌঁছে রুবিও মাদার তেরেসার সমাধি ও তার প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সফরের অংশ হিসেবে তার আগ্রা ও জয়পুর সফরেরও কথা রয়েছে।
















