আন্তর্জাতিক চা দিবস উপলক্ষে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চা হয়ে উঠেছে চীন ও মিয়ানমারের বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক।
মিয়ানমারের জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত “টি ফর হারমনি” শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজনে চায়ের সুগন্ধ আর ঐতিহ্যবাহী সংগীতের মূর্ছনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
চীনা দূতাবাস ও মিয়ানমার চা সমিতির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিভিন্ন ধরনের চা ও চা-ভিত্তিক খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল বরফ মিশ্রিত লেবু চা, ভাজা তিল মেশানো চা-নাশতা এবং মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী আচারযুক্ত চা পাতার সালাদ।
সংগীত, নৃত্য ও চা পরিবেশনের মাধ্যমে চীন ও মিয়ানমারের সংস্কৃতির এক মনোমুগ্ধকর মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়।
মিয়ানমার চা সমিতির সভাপতি উয়ে হ্তুত বলেন, এই আয়োজন দুই দেশের চা সংস্কৃতি বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চা উৎপাদন, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পথও খুলে দিয়েছে।
তিনি জানান, এটি এ ধরনের প্রথম আয়োজন এবং আগামী বছরও একই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয় উ কার কা কোম্পানি নামের একটি ঐতিহ্যবাহী মিয়ানমার চা প্রতিষ্ঠান, যা উনিশশো আটাশ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নিয়ান মিন অং বলেন, মিয়ানমারের সমাজে চায়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অতীতে রাজকীয় অনুষ্ঠানেও চা ব্যবহৃত হতো।
মিয়ানমার চা সমিতির নির্বাহী সদস্য ও শোয়ে পানলও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উ থেইন হ্তোয়ে বলেন, চীন ও মিয়ানমার উভয় দেশেই চা পান করার সংস্কৃতি রয়েছে। তবে মিয়ানমারের আচারযুক্ত চা পাতার সালাদ বিশ্বে একেবারেই ব্যতিক্রমী।
তার মতে, এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল চীনা অতিথিদের মিয়ানমারের চা ও এর স্বতন্ত্র স্বাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানি ও ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, চীনের চা শিল্প ও চা তৈরির পদ্ধতি অত্যন্ত উন্নত এবং সুসংগঠিত। মিয়ানমারের চা উৎপাদকদের এখনো চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত সাদা চা, কালো চা, সবুজ চা, উলং ও পুয়ের চা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
চীনা ভাষা অধ্যয়নরত একুশ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জুয়ে পাইং হ্তেত বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় মানুষকে একে অপরের জীবনধারা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করে।
প্রতি বছর একুশ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “চা সংরক্ষণ, সম্প্রদায়ের সহায়তা”, যার মাধ্যমে চা উৎপাদক, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অবদানকে সম্মান জানানো হয়।
















