যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানে চূড়ান্ত সমঝোতার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
শনিবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত চব্বিশ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর শেষে এ বিবৃতি দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি তার দ্বিতীয় ইরান সফর।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তেহরানে পৌঁছে মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, প্রধান আলোচক বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পাকিস্তান বলছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং গঠনমূলক সংলাপ এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো।
বৈঠকগুলো ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ইরানের নেতৃত্ব আঞ্চলিক সংকট নিরসনে পাকিস্তানের আন্তরিক ও গঠনমূলক ভূমিকাকে প্রশংসা করেছে বলেও জানানো হয়েছে।
গত আটাশ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয় ইরান।
পরে আট এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে পরবর্তী আলোচনা স্থায়ী সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন।
এরপর থেকে দুই পক্ষই নতুন করে সরাসরি আলোচনায় ফেরার এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব আদান-প্রদান করে আসছে।
















