ভারতজুড়ে ভয়াবহ তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, কোথাও কোথাও তা ছেচল্লিশ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থতা, মৃত্যু, কৃষিক্ষতি এবং খাদ্যসংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
চলতি গ্রীষ্মে দেশের বহু এলাকায় অস্বাভাবিক গরমে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কৃষকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না, গবাদিপশু তাপচাপে আক্রান্ত হচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এই তাপপ্রবাহ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম শুধু হৃদরোগ নয়, কিডনি জটিলতা, ঘুমের সমস্যা, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে তাপদাহজনিত অধিকাংশ মৃত্যুই আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এমন পরিবেশে বাস করছে যেখানে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ভেঙে পড়তে পারে। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকলে সুস্থ মানুষও প্রাণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এদিকে পরিবেশ রক্ষার বদলে বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হারে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। রাস্তা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও নগর উন্নয়নের নামে পুরোনো গাছ সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে শহরগুলো আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
সমালোচকদের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি অপর্যাপ্ত। তাপদাহে মৃত্যুর সঠিক তথ্য প্রকাশ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়ে ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে।
তীব্র গরমের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শীতলীকরণ কেন্দ্র চালু করা হলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, বাস্তব সুরক্ষার চেয়ে প্রচারেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
















