বিশ্বজুড়ে সহায়তা কমে যাওয়া, ঋণের চাপ ও সংঘাত নারী, শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর মূল্য আরও ভয়াবহ হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট Cyril Ramaphosa এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez এক যৌথ নিবন্ধে বলেছেন, এখনও বিশ্বের বহু অঞ্চলে সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের জন্য ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে রয়েছে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন। প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ শিশু পাঁচ বছর বয়স হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করছে। চিকিৎসা সাময়িকী The Lancet-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে, যার মধ্যে ৪৫ লাখই হবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
নেতারা বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড অর্থনৈতিক সূচক নয়; বরং একজন মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পারছেন কি না, একটি শিশু টিকা পাচ্ছে কি না এবং কিশোর-কিশোরীরা সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেড়ে উঠছে কি না, সেটিই আসল বিষয়।
তাদের মতে, নারী, শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক। নারীদের স্বাস্থ্যখাতে বৈষম্য কমানো গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বছরে অন্তত এক ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের টিকাদান বা কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা প্রতি ডলারের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব।
তবে বর্তমানে বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলো বড় ধরনের চাপে রয়েছে। ২০২৫ সালে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা ২৩ শতাংশ কমেছে, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। ৫০টির বেশি দেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং মাতৃসেবা, টিকাদান ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়, সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ২০২৩ সালে বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর ৬০ শতাংশ ঘটেছে যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় থাকা দেশগুলোতে। এসব অঞ্চলে বসবাসকারী নারীদের গর্ভধারণজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি স্থিতিশীল দেশের নারীদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।
দুই নেতা বলেন, এটি অনিবার্য নয়; বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল। তাই সরকারগুলোকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
তাদের মতে, প্রশ্নটি এখন আর এই নয় যে বিশ্ব নারী, শিশু ও কিশোরদের জন্য বিনিয়োগ করতে পারবে কি না; বরং প্রশ্ন হলো, এই বিনিয়োগ না করার সামর্থ্য বিশ্বের আদৌ আছে কি না।
















