মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক ধারণাগুলোর একটি হলো উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরান অথবা ইসরায়েলের পক্ষ বেছে নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারণা বাস্তব পরিস্থিতিকে সরলীকৃতভাবে তুলে ধরে এবং অঞ্চলটির প্রকৃত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে আড়াল করে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান স্বার্থ ইরানকে রক্ষা করা বা ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশলের অংশ হওয়া নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যেকোনো সংঘাত সরাসরি উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথ, জ্বালানি অবকাঠামো, সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। ফলে এই দেশগুলো দূর থেকে সংঘাত পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পায় না।
সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো দেখিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো সংঘাতে জড়াতে না চাইলেও যুদ্ধের প্রভাব তাদের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর ইসরায়েলের ইরান হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কাতারও হামলার শিকার হয়।
উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখা মানেই যুদ্ধকে সমাধান হিসেবে গ্রহণ করা নয়।
একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে কিছু নিরাপত্তা উদ্বেগ মিললেও উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনাকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এর ফল হয় জ্বালানি ঝুঁকি, বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।
এ কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনীতি, সংলাপ ও মধ্যস্থতার পথ ধরে এগোতে চাইছে। কাতার, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য দেশ নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তারা নিজেদের যুদ্ধের ময়দান হতে দেবে, নাকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে তার ওপর।
















