সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম দামে সোনা কেনার প্রলোভন দেখিয়ে জর্ডানে প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভুয়া বিজ্ঞাপন ও অনলাইন পেজ ব্যবহার করে প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রতারকরা বাজারদরের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা পাঠানোর পর বিক্রেতারা উধাও হয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ নকল বা নিম্নমানের ধাতু দিয়ে তৈরি অলংকার সরবরাহ করছে।
মোহাম্মদ নাসের নামে এক ব্যক্তি জানান, একটি অনলাইন দোকান তাকে কম দামে সোনা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, তাদের কোনো দোকান ভাড়া, সরকারি অনুমোদন বা তৈরির খরচ না থাকায় তারা কম মূল্যে সোনা বিক্রি করছে। প্রলোভনে পড়ে তিনি টাকা পাঠান। পরে ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী তালা আল-হাবাশনেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সোনা কেনেন। কিন্তু পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি আসল সোনা নয়। ধাতুটিতে অন্য উপাদান মেশানো ছিল এবং কোনো সরকারি সিল বা রসিদও ছিল না। এরপর তিনি সাইবার অপরাধ বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন।
জর্ডানের মান ও পরিমাপ সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল্যবান ধাতুর গয়না পরীক্ষা ও অনুমোদনের দায়িত্ব একমাত্র তাদের প্রতিষ্ঠানই পালন করে। আমদানি করা প্রতিটি গয়না বাজারে ছাড়ার আগে পরীক্ষা ও সরকারি সিল দেওয়া হয়। স্থানীয় কারখানাগুলোকেও একই নিয়ম মানতে হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সোনা বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ তারা পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জর্ডানের গয়না ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান রাবহি আলান বলেন, জর্ডানের মানুষের কাছে সোনা শুধু অলংকার নয়, এটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোনা বিক্রির প্রবণতাকে তিনি সমাজের জন্য নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান ছাড়া অন্য কোথাও থেকে সোনা কেনা উচিত নয়। কারণ এসব দোকানে পণ্যের ওজন, মান ও মূল্য উল্লেখ করে সঠিক রসিদ দেওয়া হয়। এতে ক্রেতার অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
তিনি আরও জানান, ভুয়া ছবি, আকর্ষণীয় অফার ও কম মূল্যের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। অনেক সময় ক্রেতারা যে পণ্য পান, তা হয় নকল, নয়তো বিজ্ঞাপনে দেখানো মানের সঙ্গে মিল থাকে না।
জর্ডানের সাইবার অপরাধ বিভাগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোনা কেনাবেচা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, তারা একাধিক অভিযোগ পেয়েছে যেখানে টাকা নেওয়ার পর প্রতারকরা গা ঢাকা দিয়েছে অথবা তামা ও লোহার মতো কমদামি ধাতু দিয়ে তৈরি নকল গয়না সরবরাহ করেছে।
নাগরিকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত ও নিবন্ধিত দোকান থেকে সোনা কেনার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
















