ইউক্রেন যুদ্ধে অগ্রগতি থেমে যাওয়া, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রভাববলয়ের দেশগুলো দূরে সরে যাওয়ায় ক্রমেই চাপে পড়ছে রাশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেমলিনের জন্য পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
মস্কোয় প্রতিবছরের বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজকে রাশিয়া নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে। তবে এবারের আয়োজন ছিল তুলনামূলকভাবে ম্লান।
গত বছর অনুষ্ঠানে চীন, ব্রাজিল, সার্বিয়া, মিসর ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও এবার বড় শক্তিধর দেশের উপস্থিতি ছিল না। অংশ নেয় মূলত বেলারুশ, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান ও কয়েকটি ছোট রাষ্ট্রের প্রতিনিধি।
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার আশঙ্কায় এবার ভারী সামরিক সরঞ্জামও প্রদর্শন করা হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি তার উদ্যোগেই হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইঙ্গিত করছে যে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক অবস্থান আগের মতো শক্তিশালী নেই।
ইউক্রেন যুদ্ধেও বড় অগ্রগতি আনতে পারছে না মস্কো। বিপুল অর্থ, অস্ত্র ও সেনা নিয়োগের পরও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরেও হামলা চালাচ্ছে।
রাশিয়ার অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। গত বছরের চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমে এ বছর এক শতাংশের সামান্য বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জনপ্রিয়তাও কিছুটা কমেছে বলে জরিপে দেখা যাচ্ছে।
মস্কো ও বড় শহরগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট সীমিত করার সিদ্ধান্তেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার ঐতিহ্যগত প্রভাববলয় হিসেবেই পরিচিত সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলগুলোতেও মস্কোর প্রভাব কমছে।
আর্মেনিয়া এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। সম্প্রতি দেশটিতে ইউরোপীয় রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইউরোপীয় নেতাদের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টও অংশ নেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর্মেনিয়ায় বিপুল বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও ভিসা সহজীকরণের আলোচনা করছে।
একসময় রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র আর্মেনিয়া এখন পশ্চিমা জোটের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে আজারবাইজানও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে রাশিয়ার দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে প্রভাব কমছে।
মলদোভা ও জর্জিয়াতেও ইউরোপপন্থি রাজনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে মস্কোর “নিকট প্রতিবেশ” এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দূরের হয়ে উঠছে।
লেখক মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হচ্ছে। আর সেটিই এখন ক্রেমলিনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
















