বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এভো মোরালেস আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আবারও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সন্তান জন্মদানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলছে।
দেশটির একটি আদালত সোমবার তাকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। আদালতের মতে, বিচার কার্যক্রমে অনুপস্থিত থেকে তিনি নিজেকে পলাতক হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি পনেরো বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান এবং ওই সম্পর্কের মাধ্যমে একটি সন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, কিশোরীর পরিবার রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল।
তবে এভো মোরালেস সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, আদালতের সমন যথাযথভাবে পৌঁছানো হয়নি, তাই তারা আদালতে হাজির হননি।
দক্ষিণাঞ্চলীয় তারিজা শহরে বিচার শুরুর কথা থাকলেও মোরালেস অনুপস্থিত থাকায় শুনানি স্থগিত করা হয়। এরপরই নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের মধ্যাঞ্চলের কোকা চাষপ্রধান এলাকায় অবস্থান করছেন। সেখানে তার সমর্থকরা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রেখেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মোরালেসকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে দেশজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে।
এক সমর্থক স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এভো মোরালেসকে আটক করা হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং পরিস্থিতি বিদ্রোহে রূপ নিতে পারে।
এর আগেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তবে সমর্থকদের অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করতে পারেনি।
দুই হাজার ছয় সাল থেকে দুই হাজার উনিশ সাল পর্যন্ত বলিভিয়া শাসন করেন এভো মোরালেস। তিনি দেশটির প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়েন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে ব্যাপক রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে তিনি পদত্যাগ করে বিদেশে আশ্রয় নেন। পরে দেশে ফিরে এলেও নতুন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।
















