ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ হত্যার চার বছর পরও বিচার না হওয়ায় ইসরাইল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো।
দখলকৃত পশ্চিম তীরে দুই হাজার বাইশ সালের ১১ মে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। একই ঘটনায় আহত হন তার সহকর্মী আলি আল-সামৌদি।
আল-সামৌদি জানান, জেনিন শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালানোর সময় স্পষ্টভাবে সাংবাদিক পরিচয়যুক্ত পোশাক পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো ফিলিস্তিনি যোদ্ধা বা সংঘর্ষ ছিল না। এরপরও ইসরাইলি সেনারা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
তার ভাষায়, প্রথম গুলিতে তিনি পিঠে আহত হন। পরে আরেকটি গুলি শিরিনের ঘাড়ে লাগে। তিনি বলেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং পরিকল্পিত হামলা।
শিরিন আবু আকলেহ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও। কিন্তু হত্যার চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা বিচার হয়নি।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তাই ইসরাইলকে আরও বেপরোয়া করেছে। কারণ ওয়াশিংটন প্রতিবছর ইসরাইলকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
আরব-আমেরিকান ইনস্টিটিউটের প্রধান জেমস জগবি বলেন, ইসরাইল প্রথমে হত্যার দায় অস্বীকার করে, পরে অন্যের ওপর দোষ চাপায় এবং শেষে তদন্তের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করে। যুক্তরাষ্ট্রও একই কৌশল অনুসরণ করেছে।
সাংবাদিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন ইসরাইলি হামলায়। শুধু গাজাতেই আল জাজিরার অন্তত ১২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সংকটবিষয়ক প্রধান মার্টিন রু বলেন, শিরিন আবু আকলেহ হত্যার পর বিচার না হওয়ায় ইসরাইল বুঝে গেছে যে সাংবাদিকদের ভয় দেখানো বা হত্যা করলেও কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরেও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বেড়েছে। আল-সামৌদি নিজেও এক বছর ইসরাইলি প্রশাসনিক আটকাদেশে বন্দি ছিলেন। অভিযোগ ছাড়াই তাকে কারাগারে রাখা হয়।
ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইসরাইলি কারাগারে বন্দি আছেন।
আলি আল-সামৌদি বলেন, সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সত্য প্রকাশ থামানো যাবে না। শিরিন আবু আকলেহ শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি সাংবাদিকতার এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন।
















