সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকায় আবারও জলদস্যু তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, এপ্রিলের শেষভাগে অন্তত তিন থেকে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ সোমালিয়ার উপকূলের কাছাকাছি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। একটি মাছ ধরার জাহাজ, একটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং আরও কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কিছু জাহাজ পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও কয়েকটিতে এখনও সশস্ত্র দস্যুরা অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো অতীতের মতো বড় আকারের জলদস্যু সংকটের ইঙ্গিত দিতে পারে। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন করে জলদস্যুতা বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু আন্তর্জাতিক নৌ টহল অন্য অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীগুলোতে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে সোমালিয়া উপকূল তুলনামূলকভাবে কম নজরদারির মধ্যে পড়ে গেছে।
এছাড়া জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তেলবাহী জাহাজগুলো এখন আরও আকর্ষণীয় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এতে জলদস্যুদের আগ্রহও বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অতীতে সোমালিয়া উপকূল বিশ্বে জলদস্যুতার জন্য সবচেয়ে কুখ্যাত এলাকাগুলোর একটি ছিল। দুই হাজার সালের শুরুর দিকে শত শত জাহাজ ছিনতাই এবং হাজার হাজার নাবিক জিম্মি করার ঘটনা ঘটেছিল। পরে আন্তর্জাতিক জোটের টহল ও কঠোর নজরদারির ফলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, পরিস্থিতি আবারও খারাপের দিকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে এই অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের জলদস্যু সংকট তৈরি হতে পারে।
















