উত্তর আমেরিকার একটি দেশের সিনালোয়া নামের প্রদেশের গভর্নর সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের মাদক পাচার মামলার অভিযোগ আনার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এতে দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তিনি সাময়িক ছুটি নিচ্ছেন বলে জানান। তিনি বলেন, নিজের বিবেক পরিষ্কার এবং তিনি কখনো জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওই গভর্নরসহ মোট দশজন কর্মকর্তা একটি প্রভাবশালী মাদক চক্রকে সরাসরি সহায়তা করেছেন। রাজনৈতিক সমর্থন ও ঘুষের বিনিময়ে তারা পাচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এমনকি নির্বাচনের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক কর্মকর্তা, যিনি প্রাদেশিক রাজধানীর মেয়র, তিনিও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট এই অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়নি। তার মতে, প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তবে তিনি এটাও বলেন, যদি নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অপরাধীকে রক্ষা করা হবে না।
সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অভিবাসন ও মাদক পাচার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চাপ বাড়িয়ে আসছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও কঠোর নীতির মাধ্যমে তারা চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা দায়ের করা বড় ধরনের পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে আরও এমন অভিযোগ আসতে পারে।
















