ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বিলাসপুরের কাছে ভয়াবহ এক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জনের প্রাণ গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় সময়, যাত্রীবাহী একটি ট্রেন পেছন থেকে এসে ধাক্কা মারে একটি পণ্যবাহী ট্রেনে। মুহূর্তেই লোহার গায়ে লেগে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যুর আর্তচিৎকার।
বিলাসপুর শহরটি ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায়, যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি বগি উঠে গেছে পণ্যবাহী ট্রেনের ওপর। উদ্ধারকর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে লোহার ফাঁদ কেটে নিচে নামিয়ে আনেন বগিটি। সেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরও তিনটি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
ছত্তিশগড় সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তা সঞ্জয় আগরওয়াল জানান, উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে বুধবার ভোরে, এবং দুর্ঘটনাস্থলের রেলপথে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন যাত্রীবাহী ট্রেনের চালক। তার সহকারী, এক নারী চালক, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মোট বিশজন আহত হয়েছেন—তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভারতীয় রেলওয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে। যেন আর কোনো পরিবার এমন বেদনাদায়ক সকাল না দেখে।”
ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা যেন প্রায়ই খবর হয়ে ওঠে। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন ১৪ হাজার ট্রেনে, যা ছড়িয়ে আছে ৬৪ হাজার কিলোমিটার রেলপথে। নিরাপত্তা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবছর শত শত দুর্ঘটনা ঘটে—যার বেশির ভাগই মানবিক ভুল বা পুরোনো সিগন্যাল ব্যবস্থার কারণে বলে মনে করা হয়।
২০২৩ সালে ভারতের ওডিশা রাজ্যে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ২৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন—যা ছিল দেশটির ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক ট্র্যাজেডি।
এমনই এক দেশে, যেখানে লোহার রেললাইন ধরে প্রতিদিন লক্ষ মানুষের স্বপ্ন ছুটে চলে, সেখানেই আবার কখনো সেই স্বপ্ন থেমে যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে। বিলাসপুরের রেলস্টেশনের ধারে আজও ভেসে বেড়ায় পোড়া ধাতুর গন্ধ আর অশ্রুসিক্ত বাতাসের ভার—যেন আকাশও নীরবে কাঁদছে এই মৃত্যুর মিছিলের সঙ্গে।
















